ধারা-৩। ব্যাখ্যা ও সংজ্ঞাসমূহ:
সহজ ভাষায়: (এটি মূল আইন নয় মূল আইনের আলোকে তৈরি করা সংক্ষিপ্ত নোট)
আদালত বা বিচারালয় (Court):
আদালত বলতে সকল জজ, ম্যাজিস্ট্রেট এবং সালিশ ব্যতীত সাক্ষ্য গ্রহনের আইনতঃ ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোন ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গকে বুঝাবে।
(দন্ডবিধি ২০ ধারায় আদালত বা বিচারালয় এর সংজ্ঞার কথা বলা আছে)
বিষয় বা ঘটনা (Fact):
বিষয় বা ঘটনা বলতে:
১। ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য কোন কিছু বা কোন কিছুর অবস্থা বা কোন কিছুর সম্পর্ক। ’
২। মানসিক কোন অবস্থা, যে সম্পর্কে কোন ব্যক্তি সচেতন।
- আমরা চোখ দিয়ে যা দেখি, কান দিয়ে যা শুনি, নাক দিয়ে শুকি, জিহ্বা দিয়ে যা স্বাদ গ্রহণ করি এবং ত্বক দিয়ে যা স্পর্শ করি তা আইনের ভাষায় বিষয়।
উদাহরণ:
১। এক ব্যক্তি কতিপয় কথা বলেছে, ইহা একটি বিষয়।
২। কোন নির্দিষ্ট বস্তু কোন নির্দিষ্ট স্থানে কোন নির্দিষ্ট ক্রমানুসারে সাজানো আছে, ইহা একটি বিষয়। ’
প্রাসঙ্গিক বিষয় (Relevant Of Fact):
আদালতে যে সকল বিষয়গুলি সরাসরি বিচার্য নয় অথচ যার যাহায্যে বিচার্য বিষয় সম্পর্কে আদালত কোন সঠিক সিদ্ধান্তে উপনীত হতে পারে তাকে প্রাসঙ্গিক বিষয় বলে।
বিচার্য বিষয় (Fact in issue):
আদালতে কোন মামলা বা অপরাধ প্রমাণ করার জন্য যে সকল বিষয়কে বিবেচ্য বিষয় বলে গণ্য করা হয় বা আদালতে বিচার করার মত কোন বিষয়কে বিচার্য বিষয় বলা হয়।
উদাহরণ: ‘রহিম’কে হত্যা করার অপরাধে ‘করিম’ অভিযুক্ত হলো। বিচারকালে নিম্নলিখিত ঘটনাগুলো বিচার্য বিষয় হতে পারে:
১. ‘করিম’,‘রহিম’ এর মৃত্যু ঘটিয়েছে।
২. ‘করিম’,‘রহিম’ এর মৃত্যু ঘটাইবার ইচ্ছা করেছে।
৩. ‘করিম’,‘রহিম’ এর নিকট হতে গুরুত্বর ও আকস্মিক উস্কানী পেয়েছিল।
দলিল:
দলিল বলতে কোন ডিজিটাল রেকর্ড বা কোন অক্ষর, আকৃতি, চিহ্ন সমূহের মাধ্যমে কোন বস্তুর উপর বিবৃত বিষয়কে দলিল বলা হয়। (দন্ডবিধির ২৯ ধারায় দলিলের সংজ্ঞা বলা আছে)
উদাহরণঃ ব্যাংক চেক, মানচিত্র, নকশা, কোন বস্তুর উপর খোদাই করা হইলে তাহা দলিল, কোন ব্যঙ্গচিত্র দলিল।
ডিজিটাল রেকর্ড:
ডিজিটাল রেকর্ড বলতে বোঝায় এমন কোনো তথ্য, উপাত্ত বা বার্তা যা কম্পিউটার, মোবাইল, সিসিটিভি, ড্রোন, সফটওয়্যার বা অন্য কোনো ডিজিটাল ডিভাইসের মাধ্যমে তৈরি, সংরক্ষণ, পাঠানো বা গ্রহণ করা হয় এবং যা আদালতে প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপনযোগ্য।
সাক্ষ্য: যদি কোন ব্যক্তি বিজ্ঞ আদালতে কোন মামলা চলাকালে হাজির হয়ে কোন বিচার্য বিষয় বা প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে মৌখিক বা লিখিতভাবে যে বিবৃতি প্রদান করে তাকে সাক্ষ্য বলে।
সাক্ষ্য ০৩ (তিন) প্রকার, যথা
১. মৌখিক সাক্ষ্য
২. দালিলিক সাক্ষ্য
৩. ফিজিক্যাল (বস্তুগত) বা ফরেনসিক সাক্ষ্য।
১। মৌখিক সাক্ষ্য : যদি কোন ব্যক্তি বিজ্ঞ আদালতে কোন মামলা চলাকালে হাজির হয়ে কোন বিচার্য বিষয় বা প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে মৌখিক ভাবে কোন বিবৃতি প্রদান করে তাহলে তাকে মৌখিক সাক্ষ্য বলে।
নোটঃ
- মৌখিক সাক্ষ্য সম্পর্কে অত্র আইনের ৫৯,৬০ ধারায় আলোচনা করা হয়েছে।
২। দালিলিক সাক্ষ্য: যদি কোন ব্যক্তি বিজ্ঞ আদালতে কোন মামলা চলাকালে হাজির হয়ে কোন বিচার্য বিষয় বা প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে দলিল উপস্থাপন করে কোন সাক্ষ্য প্রদান করে তাহলে তাকে দালিলিক সাক্ষ্য বলে।
নোটঃ
- দালিলিক সাক্ষ্য সম্পর্কে অত্র আইনের ৬১, ৬২,৬৩ ধারায় আলোচনা করা হয়েছে।
দালিলিক সাক্ষ্য আবার ০২ (দুই) প্রকার, যথা:
১. প্রাথমিক সাক্ষ্য বা মুখ্য সাক্ষ্য (সাক্ষ্য আইনের ৬২ ধারা)
২. মাধ্যমিক সাক্ষ্য বা গৌণ সাক্ষ্য (সাক্ষ্য আইনের ৬৩ ধারা)
প্রাথমিক সাক্ষ্য বা মুখ্য সাক্ষ্য:
বিজ্ঞ আদালতে হাজির হয়ে কোন মামলার বিচার্য বিষয় বা প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে মূল দলিল উপস্থাপন করে যে সাক্ষ্য প্রদান করা হয় তাকে প্রাথমিক সাক্ষ্য বা মুখ্য সাক্ষ্য বলা হয়। (সাক্ষ্য আইনের ৬২ ধারা)
মাধ্যমিক সাক্ষ্য বা গৌণ সাক্ষ্য:
বিজ্ঞ আদালতে হাজির হয়ে কোন মামলার বিচার্য বিষয় বা প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে মলূ দলিলের নকল বা ফটোকপি বা ছায়ালিপি উপস্থাপন করে যে সাক্ষ্য পদ্র ান করা হয় তাকে মাধ্যমিক সাক্ষ্য বা গৌণ সাক্ষ্য বলা হয়। (সাক্ষ্য আইনের ৬৩ ধারা)
৩। ফিজিক্যাল (বস্তুগত/শারিরীক) বা ফরেনসিক সাক্ষ্য:
ফিজিক্যাল (বস্তুগত) বা ফরেনসিক সাক্ষ্য হলো-রক্ত, বীর্য, চুল, শরীরের সমস্ত উপাদান, অঙ্গ বা অঙ্গের অংশ বিশেষ, ডিঅক্সিরাইবো নিউক্লিক এসিড (ডিএনএ), আঙ্গুলের ছাপ, হাতের তালুর ছাপ, আইরিসের ছাপ, পায়ের ছাপ বা অন্য কোন অনুরূপ উপাদান যাহা-একটি অপরাধ সংঘটিত হয়েছে মর্মে প্রকাশ করে বা অপরাধী বা ভিকটিমের মধ্যে কোন একটি সম্পর্ক বা যোগসূত্র স্থাপন করে এবং অপরাধটি প্রমানিত বা মিথ্যা প্রমাণিত করে, এই ধরণের উপাদান বা বস্তুকে ফিজিক্যাল (বস্তুগত) বা ফরেনসিক সাক্ষ্য বলা হয়।
সাক্ষী:
বিজ্ঞ আদালতে কোন মামলা চলাকালে হাজির হয়ে কোন বিচার্য বিষয় বা প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে মৌখিক বা লিখিতভাবে যিনি বিবৃতি প্রদান করেন তাকে সাক্ষী বলা হয়।
প্রমাণিত:
আদালত যখন সকল তথ্য প্রমানের ভিত্তিতে কোন বিচার্য বিষয়ের অস্তিত্ব আছে বলে এফিডেভিট করেন তখন তাকে প্রমাণিত বিষয় বলা হয়।
মিথ্যা প্রমাণিত:
আদালত যখন সকল তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতে কোন বিচার্য বিষয়ের অস্তিত্ব নেই বলে বিশ্বাস করেন তখন তাকে মিথ্যা প্রমাণিত বিষয় বলা হয়।
অপ্রমাণিত:
আদালতে কোন বিষয় যখন প্রমাণিত হয় না বা মিথ্যা প্রমাণিত হয় না, তখন তাকে অপ্রমাণিত বিষয় বলা হয়।
Join the conversation