ধারাঃ ৪। সংজ্ঞাসমূহ:
(১) বিষয়বস্তু অথবা প্রসংগ হতে ভিন্ন অভিপ্রায় প্রতীয়মান না হলে এই বিধিতে নিম্নলিখিত শব্দ অভিব্যক্তির নিম্নলিখিত অর্থ হবেঃ
৪(১)(ক) এডভোকেট: যে ব্যক্তি আদালতের অনুমতিক্রমে আইনানুযায়ী যেকোন আদালতে আইন ব্যবসা করতে পারে এমন ব্যক্তিকে এডভোকেট বা মোক্তার বলা হয়। [A = Advocate ]
৪(১)(কক) এটর্নি জেনারেল: এটর্নি জেনারেল বলতে সরকার কর্তৃক বাংলাদেশের জন্য নিযুক্ত এটর্নি জেনারেল, অতিরিক্ত এটর্নি জেনারেল, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অথবা সহকারী এটর্নি জেনারেলকে বোঝায়। [A = Attorney-General]
এমনকি সরকার কর্তৃক নিযুক্ত অন্য কোনো আইন কর্মকর্তা থাকলেও সেটিও অন্তর্ভুক্ত।
৪(১)(খ) জামিনযোগ্য অপরাধ: যে সকল অপরাধ করলে দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী অপরাধীর জামিনের ব্যবস্থা আছে সেই অপরাধকেই জামিনযোগ্য অপরাধ বলে। [B = Billable Offence ]
অথবা
যে সকল অপরাধ করলে দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী অথবা অত্র আইনের দ্বিতীয় তফসিলে জামিনযোগ্য দেখানো হয়েছে সেই সকল অপরাধকেই জামিনযোগ্য অপরাধ বলে। [B = Billable Offence ]
৪(১)(খ) জামিন অযোগ্য অপরাধ: জামিনযোগ্য অপরাধ ব্যতীত অন্য যেকোনো অপরাধকেই জামিন অযোগ্য অপরাধ বলে। [B = Billable Offence ]
অথবা
যে সকল অপরাধ করলে দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী অপরাধীর জামিনের ব্যবস্থা নেই সেই অপরাধকে জামিন অযোগ্য অপরাধ বলে। [B = Billable Offence ]
৪(১)(গ) চার্জ: একাধিক অভিযোগ থাকলে প্রতিটি অভিযোগকে আলাদা আলাদা করে চার্জ হিসাবে গণ্য করা হয়। [ C = Charge ]
৪(১)(ঘ) বাতিল
৪(১)(ঙ) রাষ্ট্রীয় কেরানী: প্রধান বিচারপতি কর্তৃক রাষ্ট্রীয় কার্যক্রম সম্পাদনের জন্য বিশেষভাবে নিযুক্ত কোন অফিসারকে রাষ্ট্রীয় কেরানী বলা হয়। [ E = Empire/State clerk ]
(চ) “আমলাযোগ্য অপরাধ” ও আমলযোগ্য কেস" অর্থ এমন অপরাধ যার জন্য পুলিশ ওয়ারেন্ট ছাড়াই গ্রেফতার করতে পারে। [ F = Felonious/ cognizable offence]
(ছ) বাতিল
(জ) "নালিশ" অর্থ ম্যাজিষ্ট্রেট কর্তৃক এই আইন অনুসারে ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্দেশ্যে তার নিকট মৌখিক অথবা লিখিতভাবে এই মর্মে অভিযোগ করা যে, জ্ঞাত অথবা অজ্ঞাত কোন ব্যক্তি একটি অপরাধ করেছে, কিন্তু এতে পুলিশ অফিসারের রিপোর্ট অন্তভূক্ত হবে না। [ H= Hassle/complaint ]
(ঝ) বতিল।
(ঞ) "হাইকোর্ট বিভাগ" অর্থ ফৌজদারী আপীল অথবা রিভিশনের জন্য হাইকোর্ট বিভাগ।
(ট) “অনুসন্ধান" অর্থ এই আইন অনুসারে কোন ম্যাজিষ্ট্রেট অথবা আদালত কর্তৃক পরিচালিত বিচার ব্যতিত সমস্ত ইনকোয়ারী।
(ঠ) “তদন্ত" অর্থ সাক্ষ্য-প্রমাণ সংগ্রহের উদ্দেশ্যে কোন পুলিশ অফিসার অথবা ম্যাজিষ্ট্রেটের নিকট হতে ক্ষমতাপ্রাপ্ত অপর কোন ব্যক্তি (ম্যাজিষ্ট্রেট নহেন) কর্তৃক পরিচালিত সকল কার্যক্রম।
(ড) “বিচারিক কার্যক্রম" সেই সমস্ত কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত হবে যাতে আইনসংগতভাবে শপথপূর্বক সাক্ষ্য গ্রহণ করা যেতে পারে।
(ঢ) "আমলের অযোগ্য অপরাধ” ও “আমলের অযোগ্য কেস” অর্থ যেসব অপরাধে পুলিশ ওয়ারেন্ট ছাড়া গ্রেফতার করতে পারে না।
(ণ) “অপরাধ” অর্থ সেই সমস্ত কার্য অথবা কার্য-বিরতি যা বর্তমানে বলবৎ কোন আইনে শাস্তিযোগ্য।
(ত) “থানার ভারপ্রাপ্ত অফিসার” সেই সমস্ত অফিসারকেও অন্তর্ভুক্ত করবে, যারা কনষ্টেবল পদের উপরে এবং থানার ভারপ্রাপ্ত অফিসারের অব্যবহিত নীচে এবং থানার ভারপ্রাপ্ত অফিসারের অনুপস্থিতি, অসুস্থতা অথবা অন্য কোন কারণে তিনি তার কার্য সম্পাদন করতে না পারলে, তার স্থলে থানায় উপস্থিত থাকেন; অথবা সরকার নির্দেশ দিলে উপস্থিত অন্য যেকোন পুলিশ অফিসারকেও বুঝাবে।
(থ) “স্থান" এর মধ্যে বাড়ি, দালান, তাবু ও নৌযান ইহার অন্তভুক্ত।
(ধ) “থানা" অর্থ সরকার কর্তৃক সাধারণভাবে অথবা বিশেষভাবে থানা বলে ঘোষিত কোন ঘাটি অথবা স্থান। এবং সরকার কর্তৃক এই প্রসংগে নির্ধারিত কোন স্থানীয় এলাকাও ইহার অন্তর্ভুক্ত।
(ন) “পাবলিক প্রসিকিউটর” অর্থ অত্র আইনের ৪৯২ ধারা অনুসারে নিযুক্ত যেকোন ব্যক্তি এবং পাবলিক প্রসিকিউটরের নির্দেশক্রমে কার্যরত ব্যক্তি উহার অন্তর্ভুক্ত হবে।
(২) এছাড়া, যেসব শব্দ ব্যবহার করে কোনো কাজ বোঝানো হয়েছে, সেগুলো শুধু করা (কর্ম) নয়, অবৈধভাবে না করা (illegal omission)-কেও অন্তর্ভুক্ত করে। অর্থাৎ, কেউ দায়িত্ব থাকা সত্ত্বেও যদি ইচ্ছাকৃতভাবে দায়িত্ব পালন না করে, সেটিও আইনের আওতায় অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। তদুপরি, এই আইনে যেসব শব্দ বা শব্দগুচ্ছ ব্যবহার করা হয়েছে এবং যেগুলো আগে সংজ্ঞায়িত হয়নি, তবে যদি দণ্ডবিধিতে (Penal Code) সেগুলোর সংজ্ঞা দেওয়া থাকে, তাহলে সেই সংজ্ঞাই এখানে প্রযোজ্য হবে।
Join the conversation